ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাচীন মন্দিরের তালা ভেঙে ১৪ মূর্তি চুরি
মন্দিরের পাঁচটি কক্ষে থাকা মূর্তিগুলোর মধ্যে ছয়টি পিতলের এবং বাকি আটটি পাথরের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে প্রায় ‘তিনশ বছর পুরানো’ একটি মন্দিরে চুরির অভিযোগ উঠেছে।
এতে পিতল, পাথরে নির্মিত ১৪টি মূর্তি, টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়েছে বলে দাবি মন্দির কর্তৃপক্ষের।
সোমবার রাত ২টা থেকে ৩টার দিকে উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের পাগল শংকর ইসকন মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাসিরনগর থানা পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) শ্রী কৃষ্ণ লাল ঘোষ।
স্থানীয় লোকজন, মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, ১৭ শতকে পাশের সরাইল উপজেলার দেওয়ান মনোয়ার আলীর সহযোগিতায় পশ্চিম মুখী এই মন্দিরটি নির্মিত হয়। মন্দিরের পাঁচটি কক্ষ থাকা ১৪টি মূর্তির মধ্যে ছয়টি পিতলের এবং বাকি আটটি পাথরের।
মন্দিরের পূজারী আদি শিশ্য বলেন, রাত ৪টার দিকে তিনি ঘুম থেকে উঠে মঙ্গল আরতী করতে মন্দিরের প্রধান ফটকের সামনে যান। সে সময় তিনি মন্দিরের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পান।
এরপর মন্দিরের সেবায়েত অধক্ষ্য সুখদা বলরাম দাসকে বিষয়টি অবহিত করেন তিনি। সেবায়েত বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানালে মঙ্গলবার সকালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাচীন ও মহামূল্যবান মূর্তিগুলো ছাড়াও মন্দির থেকে রুপার একটি পাদুকা, বাঁশি, কাসার বাসন ও আটটি কলস, পিতলের একটি আসন, চারটি গ্লাসসহ একটি হারমোনিয়াম, চারটি বালতিসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে গেছে চোরেরা।
এছাড়া তিনটি দান বাক্স থেকে নগদ টাকা ও এক পূজারীর ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।
মন্দিরের পূজারী লিপি রানী গোপ বলেন, “আমাদের অপরাধটা কী। বার বার আমাদের উপরেই কেন এমন অত্যাচার হচ্ছে। নিজেদের নিরাপদ মনে করছি না।”
পূজারী মন্দরী মালাকার বলেন, “আজ আমাদের মন্দিরের সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। এই কষ্ট প্রকাশ করার ভাষা নেই।”
পুলিশের পরির্দশক কৃষ্ণ লাল ঘোষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, এ ঘটনায় মন্দিরের সেবায়েত সুখদা বলরাম দাস বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন । মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন